বিচারপতি নাসিম এর পক্ষপাতদুষ্টতার অনাস্থার কারনে সরে দাড়ানোর জন‍্য আবেদন (রিকিউসাল এর)যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন

22 Nov

20111122-122904 PM.jpg

যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন

(১) জনাব খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র এ‍্যডভোকেট ও সভাপতি, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন, (২) জনাব জমির উদ্দীন সরকার, ব‍্যারিষ্টার-এট-ল ও সিনিয়র এ‍্যডভোকেট এব‌ং সাবেক স্পিকার, (৩) জনাব রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব‍্যারিষ্টার এট ল, সিনিয়র এ‍্যাডভোকেট ও সাবেক মন্ত্রী (৪) জনাব আব্দুর রাজ্জাক, ব‍্যারিষ্টার এট ল ও সিনিয়র এ‍্যডভোকেট, (৫) জনাব জয়নুল আবেদীন, সিনিয়র এ‍্যাডভোকেট, (৬) জনাব মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা, ব‍্যারিষ্টার এট ল, সেক্রেটারী, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন, আজ এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে নিম্নোক্ত বক্তব‍্য পেশ করেন:-

১. আজ আমরা অত‍্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়ে এ স‍ংবাদ সম্মেলন করছি। বিচার বিভাগের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন।

২. জনাব বিচারপতি মোহাম্মদ নিযামুল হক নাসিম সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে কর্মরত আছেন। ২৫শে মার্চ ২০১০ তারিখে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব‍্যুনাল এর চেয়ারম‍্যান হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার নেতৃত্বে বিএনপির সাবেক দুজন মন্ত্রী ও জামায়াতের ৫ জন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে (যাদের মধ্যে দুইজন সাবেক মন্ত্রী রয়েছেন) যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম চলছে।

৩. সরকারপক্ষ কতৃক সাম্প্রতিক সময়ে দায়েরকৃত কিছু দলিলপত্র থেকে দেখা গেল জনাব বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম ১৯৯৪ সালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত বিষয় তদন্তের জন‍্য গঠিত গণতদন্ত কমিশন এর সদস‍্য ছিলেন। ঐ সময় তিনি সুপ্রীম কোর্টের একজন বিজ্ঞ আইনজীবী ছিলেন।

৪. ২৭ অক্টোবর ২০১১ ইং তারিখে অভিযুক্তদের একজন আইনজ‌ীবী মাওলানা দেলওয়ার হেসাইন সাঈদীর পক্ষ থেকে জনাব বিচারপতি নিজামুল হক এর প্রতি উল্লেখিত কারনেই অনাস্থার কারনে সরে দাড়ানোর জন‍্য একটি আবেদন (রিকিউসাল) আদালতে পে‌শ করা হয়। আবেদন পত্রে বলা হয় যে বিচারে তিনি তদন্ত কাজে জড়িত ছিলেন সে বিষযে মিমাংসার জন‍্য বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন‍্য তিনি অযোগ‍্য। বিচারপতি নিযামুল হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষের দায়ের করা কাগজপত্র থেকেই প্রমানিত হয়। মাওলানা সাঈদীর উক্ত আবেদন পত্রে আনীত অভিযোগগুলো খন্ডানো হয়নি। ১৩ নভেম্বর ২০১১ ইং তারিখে ট্রাইব‍্যুনালে বিচারপতি নিযামুল হকের অনুপুস্থিতিতে দিনব‍্যাপী শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

৫. অভিযুক্ত পক্ষের আবেদনপত্র ও শুনানীতে সংবিধান, সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের শপথ, সংবিধানের ৯৬ (৪) অনুচ্ছেদের আলোকে প্রনীত আচরনবিধি, সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষনাপত্র, নাগরিক ও রাজনৈতিক আচরন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কাভন‍্যান্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম ষ্ট‍্যাটিউট (যে গুলোর সবকটিতেই বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে) ইত‍্যাদির উপর নির্ভর করা হয়। অভিযুক্তদের আইনজীবীগন দেশ বিদেশের বিভিন্ন নজীর এমনকি হাউস অব লর্ডসের ও একটি সিদ্ধান্তের প্রতি ট্রাইব‍্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। প্রসিকিউশন পক্ষের দায়ের করা কাগজপত্রে দেখা যায় ট্রাইব‍্যুনালের গঠিত চার্জ সমুহের মধ্যে অনেকগুলো চা‍র্জই জনাব নিযামুল হকের তদন্ত প্রতিবেদের উপর ভিত্তি করা।

৬. ১৪ই নভেম্বর ২০১১ তারিখে প্রদত্ত ট্রাইব‍্যুনালের আদেশে মাওলানা সাঈদীর আবেদন পত্র নিষ্পত্তি করা হয়েছে তবে আবেদন পত্রের মেরিটে না গিয়ে বিষয়টি ট্রাইব‍্যুনালের চেয়ারম‍্যানের সুবিবেচনার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ট্রাইব‍্যুনাল জনাব বিচারপতি নাসিমের পক্ষপাতদুষ্টতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দিয়ে এই বলে এড়িয়ে গেছেন এই বলে যে একজন সহবিচারকের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তদেবার এখতিয়ার তাদের নেই ।

৭. যদিও অভিযুক্তদের আইনজীবীগন তাদের বক্তব‍্যে চেয়ারম‍্যানের পক্ষপাতদুষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন, ট্রাইব‍্যুনাল তা এড়িয়ে গিয়ে বিষ‌য়টি চেয়ারম‍্যানের ‘সুবিবেচনার’ উপর ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা মনে করি ট্রাইব‍্যুনালের এ সিদ্ধান্ত সঠিক।

৮. দলমত নির্বিশেষে বারের সকল সদস‍্য মনে করেন জনাব বিচারপতি নাসিমের পদত‍্যাগ করা উচিত। এতে সমাজের সচেতন জনগোষ্ঠীর মতের ঐক‍্য হয়েছেও বটে। অত‍্যন্ত পরিতাপের বিষয়-তিনি পদত‍্যাগ করলেন না। চেয়ারম‍্যান আজও একটি রিভিউ আবেদন শুনার জন‍্য অন‍্য দুজন বিচারকের সাথে ট্রাইব‍্যুনালে বসেছেন। এ ঘটনা অভিযুক্তদের আইনজীবীগনকে ওয়াক আউট করতে বাধ‍্য করে। এটি দুর্ভাগ‍্যজনকই নয়, নজীরবিহীনও বটে।

৯. জনাব বিচারপতি নাসিম একজন সম্মানিত ব‍্যাক্তি। তিনি সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক। তিনি যে ঘটনার তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত সে ঘটনার বিচারকাজের জন‍্য গঠিত ট্রাইব‍্যুনাল থেকে নিজেকে দূরে রাখাই ছিল কাম্য। তার চেয়ারম‍্যান হিসাবে থাকার কোন আইনী ও নৈতিকভিত্তি নেই।

১০. আমরা উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি জনাব বিচারপতি নিযামুল হক, আপনি এখনি, অনতিবিলম্বে পদত‍্যাগ করুন। আপনি জোরপূর্বক এ পদে থেকে ন‍্যায়বিচারের পরিবেশ দূষিত করেছেন। বিচার বিভাগের উপর কালিমা লেপন করেছেন। বিচার বিভাগের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং সর্বপরি ন‍্যায়বিভাগের উপর জনগনের আস্থা নষ্ট করেছেন। তাছাড়া বিচারপতি জনাম নিযামুল হক চেয়ারম্যান হিসাবে টিকে থাকা প্রসিকিউশনের জন্য ক্ষতিকর এবং সরকারের জন্য বিব্রতকর। আমাদের আশংকা বিচারপতি নিযামুল হক যদি তার পদে বহাল থাকেন, তাহলে তা আগামী দিনগুলিতে অনেক অপ্রত্যাশিত ও অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

১১. সুতরাং আমরা আন্তরিকভাবে বিচারপতি নিযামুল হক নাসিমের প্রতি অনতিবিলম্বে পদত‍্যাগের আহবান জানাচ্ছি।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: