চার দিকে শুধু রাজাকার! :: নয়া দিগন্ত

26 Nov

http://www.dailynayadiganta.com/details/12887

চার দিকে শুধু রাজাকার!

॥ ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ॥

বহু আগে থেকেই আমরা বলে আসছিলাম যে, আওয়ামী লীগ না করলে কোনো নিস-ার নেই। যে আওয়ামী লীগ করে না সে রাজাকার। আর সাক্ষাৎ রাজাকারও যদি আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করে দেয়, তাহলে মুহূর্তেই সে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যেতে পারে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী একবার জাতীয় সংসদে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, শুনেছেন কি না যে, দেশে এক আজব মেশিন তৈরি হয়েছে। মাননীয় স্পিকার, কৌতূহলী হয়ে জানতে চেয়েছিলেন, কী সেই মেশিন। জনাব সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় হাসতে হাসতে বলেছিলেন, সেই আজব মেশিনের নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই মেশিনের এক দিক দিয়ে রাজাকার ঢুকিয়ে দিলে অপর দিক দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বের হয়ে আসে।’
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এ কথায় সংসদে হাসির রোল পড়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ করলে রাজাকার আর রাজাকার থাকে না। আওয়ামী লীগ না করলে মুক্তিযোদ্ধাও রাজাকার হয়ে যায়। অথচ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধু আওয়ামী লীগাররাই করেনি। সে যুদ্ধে এ দেশের সর্বস-রের মানুষ অংশ নিয়েছিল। ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কামার-কুমার, মুটে-মজুর কেউ বাদ ছিল না। কিন’ সে যুদ্ধের সময়ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোথাও কোথাও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের মুক্তিযুদ্ধে শরিক হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন। সে প্রতিবন্ধকতা সফল হয়নি। সফল না হওয়ায় শেষ পর্যন- খাস আওয়ামী লীগারদের দিয়ে গঠন করা হয়েছিল ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স’ (বিএলএফ), যা বহুলভাবে মুজিব বাহিনী হিসেবে পরিচিত। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, যুদ্ধের একেবারে শেষ দিকে এই মুজিব বাহিনীর দু-একটি দল ভারতীয় বাহিনীর ছত্রছায়ায় যুদ্ধে শরিক হয়েছিল। অন্যরা ছিল রিজার্ভ বাহিনী হিসেবে।
ভারত সরকারের লক্ষ্য ছিল, স্বাধীনতা অর্জনের একেবারে চূড়ান- পর্যায়ে, যখন বছরভর যুদ্ধ করা, কাছামারা মুক্তিযোদ্ধারা ক্লান–শ্রান- থাকবেন, তখন অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুজিব বাহিনী যুদ্ধের পুরো নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব গ্রহণ করবে। আর এদের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস-ারে ভারতীয় স্বপ্ন বাস-বায়ন সহজ হবে। কিন’ এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের সে ডিজাইন সফল হতে দেননি। তারা শেষ পর্যন- মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব নিজেদের হাতেই রাখতে সক্ষম হন। স্বাধীনতা অর্জনের পর অপরিসীম শ্রদ্ধাবশত তারা রাজনৈতিক নেতৃত্ব শেখ মুজিবের হাতে তুলে দেন। এটাও কম গুরুত্বপূর্ণ কথা নয়। পৃথিবীর বিপ্লব ও স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসে এ রকম ঘটনাও বিরল। সাধারণত মুক্তিযুদ্ধে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে সরকার গঠন করেছেন তারাই। বাংলাদেশই সম্ভবত এর একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে স্বাধীনতাযোদ্ধারা রাষ্ট্রক্ষমতা অন্য কারো হাতে তুলে দিয়েছিলেন এবং নিজেরা ব্যারাকে কিংবা ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা সরকার গঠনের ইচ্ছা তারা পোষণ করেননি। তবে যেকোনো বিবেচনায় বিএলএফ সদস্যরা অর্থাৎ খাস আওয়ামী লীগাররা মুক্তিযুদ্ধ করেননি। স্বাধীনতা অর্জনের পর অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সর্বদলীয় সরকারের আহ্বান জানানো হয়েছিল। সে আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় পাকিস-ানের কারাগারে আটক শেখ মুজিবুর রহমান যেমন সাড়া দেননি, তেমনি সাড়া দেননি অন্য কোনো আওয়ামী লীগ নেতাও। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ যে-ই করুক, তার পুরো কৃতিত্ব আওয়ামী লীগারদেরই চাই।
কিন’ বিভাজনের নীতি দিয়ে একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য জাতীয় ঐকমত্য অপরিহার্য। এ সত্য শেখ মুজিবুর রহমানও উপলব্ধি করেছিলেন। সে কারণে ১৯৭৩ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। তার আশা ছিল, দেশ যখন স্বাধীনতা অর্জন করেই ফেলেছে, তখন বিভেদের ভেদরেখাগুলো মুছে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
কিন’ একটা জাতিকে শোষণ করার জন্য, তার ওপর অব্যাহত আধিপত্য বজায় রাখার জন্য সেই জাতিকে বিভক্ত রাখা সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির প্রধান লক্ষ্য। এই বিভেদ সৃষ্টির নানা ধরনের অপচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে চলে এসেছে। কিন’ শেখ মুজিব ও পরবর্তীকালে শাসকদের সময়ে সে চক্রান- বাস-বায়ন সম্ভব হয়নি। সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি সব সময় একটি দুর্বল গণভিত্তিহীন সরকারের খোঁজ করেছে, যাদের মাধ্যমে তারা তাদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র
বাস-বায়ন করতে পারবে। তাদেরই চক্রানে- যখন বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি জেনারেল মইনের নেতৃত্বে তারা একটি অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠায় সফল হলো, তখনই দেশের মানুষকে বিভাজনের একটি পথ পাওয়া গেল।
জেনারেল মইন যখন অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতা গ্রহণ করলেন, তখন ভারতের সে কী উল্লাস! জেনারেল মইনকে ভারতে ডেকে নিয়ে সরকারপ্রধানের মর্যাদায় লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছে ভারত। শুধু তা-ই নয়, ভারতীয় নেতৃবৃন্দ উচ্ছ্বাসের চোটে এমন কথাও বলতে কসুর করেননি যে, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ভারতের জন্য এত বন্ধুসুলভ সরকার সেখানে কখনো অধিষ্ঠিত হয়নি। ভারত এমন কথা বলে মইনকে ফোলায়। আর মইন নিজের মাপ আঁচ করতে পারেন না। ফুলতে ফুলতে তিনি বুঝতে পারেননি যে, কখন ফটাশ করে ফুটে যাবেন। আর মইনের মাধ্যমেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ বাংলাদেশে জোরেশোরে উত্থাপিত হতে শুরু করে।
এর আগে জঙ্গিবাদ ইস্যুুতে বাংলাদেশের মানুষকে বিভক্ত করার কম চেষ্টা হয়নি। এই বলে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল যে, একশ্রেণীর লোক এখানে জঙ্গিবাদের সমর্থক। আর একশ্রেণীর লোক জঙ্গিবাদবিরোধী। জঙ্গিবাদ বলতে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীদেরই চিহ্নিত করা হয়েছিল। যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, নিয়মিত রোজা রাখেন, দাড়ি রাখেন, টুপি পরেন, নিয়মিত কুরআন পড়েন, ঘরে কুরআন-হাদিসের বই বা অন্য কোনো ইসলাম ধর্মীয় বই রাখেন, তারা সবাই জঙ্গি। এসব জঙ্গি ধরতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসায় হানা দেয়া শুরু হলো। ছাত্রদের মেসে মেসে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলো। নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে পরিসি’তি এমন দাঁড়াল যে, বাড়ি থেকে কুরআন-হাদিসসহ ইসলামী কিতাব লোকেরা সরিয়ে ফেলতে শুরু করল।
কিন’ অচিরেই বোঝা গেল, এ উদ্যোগে জাতিকে বিভক্ত করতে গেলে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। অতএব বাংলাদেশী মানুষকে বিভক্ত করার জন্য নতুন কোনো ধুয়া চাই। আর সে ধুয়া পাওয়াও গেল। আর তা হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। জোরেশোরে আওয়াজ তোলা হলো যে, প্রায় চার দশক আগে যে ইস্যুর মীমাংসা হয়ে গেছে, তা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য গঠন করল আন-র্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনাল। সে ট্রাইব্যুনালের কাঠামো নিয়ে সারা পৃথিবী উচ্চকিত হয়ে উঠল। আন-র্জাতিকভাবে স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটা কিছুতেই নয়। এ শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উপায় মাত্র। তাতে সরকারও একধরনের বেকায়দায় পড়ে গিয়ে বলতে শুরু করল এটা আন-র্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নয়, অভ্যন-রীণ আদালত। তা-ই যদি হয়, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কেন? প্রচলিত আদালতেই এর বিচার সম্ভব।
এখনো সে ডামাডোল চলছে। আর ঘটনা যা-ই ঘটুক, তার পেছনেই সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার নস্যাতের ষড়যন্ত্র শুঁকে বেড়াচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বাড়ল কেন? ওই যে ওই, যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া নস্যাতের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি কেন? মন্ত্রীরা আঙুল তুলে বললেন, এই প্রশ্নকর্তা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নস্যাৎ করতে চায়। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে কেন? কী অবাক কথা, ও লোক যুদ্ধাপরাধের বিচার নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে। ভারতকে করিডোর দেয়া কেন? এ প্রশ্নের উত্তর আসছে, এসব কথা বলে যুদ্ধাপরাধের বিচার ভণ্ডুল করার চেষ্টা হচ্ছে। নরসিংদীর মেয়র লোকমান হত্যায় মন্ত্রী রাজুর ভাই জড়িত। রাজুর ভাই আত্মগোপনের আগে সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, এ অভিযোগকারীরা যুদ্ধাপরাধের বিচার নস্যাৎ করতে চায়। পরিসি’তি এমন দাঁড়িয়েছে যে, আওয়ামী লীগের সমালোচনা করলেই সে যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চক্রান-কারী। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের লোকেরা হিতাহিত জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেছেন। এত দিন মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষক বীরউত্তম মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানকে রাজাকার, পাকিস-ানি অ্যাজেন্ট প্রভৃতি গালিগালাজ করে আসছিলেন সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দ। বোঝা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠার জন্য, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্র ও উন্নয়ন ধারায় স’াপিত করে জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে কঠিন করে দিয়েছেন। সে কারণেই তার সম্পর্কে এ ধরনের ইতর উক্তি করা সম্ভব হয়েছে। জনগণ সম্ভবত এ জন্য আওয়ামী নেতাদের করুণাই করেছেন।
কিন’ আওয়ামী লীগের এক এমপি শওকত মোমেন শাজাহান গত ১৬ নভেম্বর আর এককাঠি এগিয়ে
মন-ব্য করেছেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী। ফলে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হওয়া উচিত। আওয়ামী লীগে এটা নতুন নয়। স্বাধীনতার পরপরই শেখ মুজিব সরকারের নীতির বিরোধিতা করায় মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার ও জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেজর জলিলকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বাংলাদেশের ভেতরে থেকে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রচেষ্টায় বিশাল কাদেরিয়া বাহিনী গঠন করেন। মুক্তিযুদ্ধে যে বাহিনীর অবদান অবিসংবাদিত এবং তিনিই সশস্ত্র বাহিনীর বাইরে একমাত্র বীর উত্তম মুক্তিযোদ্ধা। তিনি এখনো শেখ মুজিবের অনুরক্ত এবং তাকে পিতা বলে সম্বোধন করেন। সেই কাদের সিদ্দিকীকে যুদ্ধাপরাধী বলা সম্ভব হলো! আর আশ্চর্যের ঘটনা হলো এই যে, আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের কোনো নেতাই এখন পর্যন- ওই এমপিকে তিরস্কার করেননি কিংবা প্রতিবাদ করেননি। এখন যেহেতু কাদের সিদ্দিকী আর আওয়ামী লীগ করেন না, ফলে যত বড় মুক্তিযোদ্ধাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী হোন না কেন, তিনি সাক্ষাৎ রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী। তার বিচার করতে হবে। এটাই সম্ভবত আওয়ামী লীগের মনোভাব।
আসলে যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া এভাবেই চলছে। এখন যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রহসন চলছে, ১৯৭৩ সালে তারা কেউ এই অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন না। যে ১৯৫ জন পাকিস-ানি সেনা সদস্যকে যুদ্ধাপরাধী বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল, শেখ মুজিবুর রহমান তাদের ক্ষমা করে পাকিস-ানে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যদি করতেই হয়, আগে তাদের ফেরত এনে বিচার করা উচিত। ফলে প্রমাণিত হয়ে গেছে, এই বিচার প্রহসন শুধুই প্রতিহিংসার বাস-বায়ন।
গত ২২ নভেম্বর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ‘তবে স্বাধীনতাই কি যুদ্ধাপরাধ’ শিরোনামে এক নিবন্ধ লিখেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের ইদানীংকার পাতিনেতারা যখন জিয়াউর রহমানের ওপর অভিযোগ আনতে গিয়ে বলতে চেষ্টা করেন, মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানিদের ঢুকিয়ে দেয়া অ্যাজেন্ট। কথাটা মোটেই আওয়ামী লীগ এবং তার সরকারের জন্য সুখকর নয়। জিয়াউর রহমানের মতো একজন মুক্তিযুদ্ধের বীরকে যদি অবমূল্যায়ন করতে গিয়ে পাকিস-ানের অ্যাজেন্ট বানানো হয়, তাহলে স্বাধীন বাংলা সরকারের ব্যর্থতার কোনো কূলকিনারা থাকে না। পাকিস-ানি অ্যাজেন্টের নামে জেড ফোর্স বলে ব্রিগেড গঠন বিপ্লবী সরকারের জন্য একটি অমার্জনীয় ব্যর্থতার অপরাধ। ঠিক একইভাবে ১৯৭৩ সালে বিজয় দিবসে জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা বঙ্গবন্ধুর জন্য অমার্জনীয় ব্যর্থতা।… বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হবে এটা পাকিস-ানি গোয়েন্দা তো দূরের কথা, গোয়েন্দাদের বাপ-দাদারও চিন-ার বাইরে ছিল। ভীতু বাঙালি অস্ত্র হাতে নিবে- এটা ছিল পাকিস-ানিদের কাছে অভাবনীয় ব্যাপার। চিটাগাং থেকে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বিষয়টা ছিল পরিবেশগত কারণে স্বতঃস্ফূর্ত। ওই সময় পাকিস-ানি কোনো কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যেতেন কি না চিন-া করার বিষয়। তাই একজনকে অপমান করতে গিয়ে জাতিকে অপমান করা, সেই সাথে জাতির পিতাকে অপমান-অপদস- করা এটা ভালো কথা নয়।’
কিন’ চোরারা কি ধর্মের কাহিনী শুনবে?
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
rezwansiddiqui

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: