প্রহসন হওয়ার ঝুঁকিতে ট্রাই ব্যুনাল :: নয়াদিগন্ত

27 Nov

http://www.dailynayadiganta.com/details/13210

প্রহসন হওয়ার ঝুঁকিতে ট্রাইব্যুনাল :: নয়াদিগন্ত

লন্ডনের বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনাল প্রহসনে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করে বলা হয়েছে, ‘ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে সেখানে পক্ষপাতদুষ্ট বিচার চলছে। বিচারের জন্য যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অতীতের অপরাধ নয় বরং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণেই বিচারের নামে এসব ব্যক্তিকে টার্গেট করা হয়েছে ।’
গতকাল ২৬ নভেম্বর সংখ্যায় ইকোনমিস্টে প্রকাশিত ‘ট্রাইড অ্যান্ড ফাউন্ড ওয়ান্টিং’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে এশিয়ার কম্বোডিয়া ও শ্রীলঙ্কার যুদ্ধাপরাধ বিচারের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে ‘গত ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযুক্ত হিসেবে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মাওলানা সাঈদী বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর নেতা। মাওলানা সাঈদীর সাথে আরো ছয়জন প্রসিদ্ধ নেতার নাম একই অভিযোগে যুক্ত হতে যাচ্ছে।’
ইকনোমিস্টের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ‘যাদের এ বিচার করা হচ্ছে তাদের অতীতের অপরাধ নয় বরং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণেই তাদের টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সাথে জোটভুক্ত একটি দল। অভিযুক্তদের বেশ কয়েকজন অতীতে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।’
আগামী নির্বাচন আসার আগেই তাদের অপরাধী প্রমাণ করে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে কি না- প্রশ্ন উত্থাপন করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এটি করা হলে বিরোধী দল দুর্বল হবে। বিচারকে যদি পক্ষপাতদুষ্ট করা হয় তাহলে তা ইতিহাসে আরো গভীর ক্ষত সৃষ্টি করবে। সমস্যার কোনো সমাধান দেবে না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বহিঃশক্তি বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিচার নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছে। তারা এ আদালতের বিষয়ে অতীতে কথা বলেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আইনজীবী ও সাক্ষীদের নানা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবীদের মামলা মোকাবেলা বিষয়ে প্রস’তির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হচ্ছে না। বিচারপতিদের পক্ষপাত বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানানোর বিষয়ে আইনজীবীদের বাধা দেয়া হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে সরে দাঁড়ানোর জন্য আবেদন জানানো হয়েছে অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে। কারণ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ১৯৯৪ সালে যুদ্ধাপরাধসংক্রান্ত একটি প্রতীকী বিচারে তদন্তকাজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিদেশী আইনজীবীদের অংশ নিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে একজন ব্রিটিশ আইনজীবী মন্তব্য করেছেন এই বলে যে, এ বিচারে স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার চিহ্নমাত্র নেই।’
ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘এ ট্রাইব্যুনাল প্রশংসা পেতে পারত। এটি (১৯৭১ সালের অপরাধ) ইতিহাসের একটি জঘন্যতম অধ্যায় এবং এ বিচার সবাইকে এক করতে সহায়তা করতে পারত। কিন’ এর পরিবর্তে ট্রাইব্যুনাল প্রহসনে পরিণত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এখানকার বিচার পক্ষপাতদুষ্ট মনে হচ্ছে। এটিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অভিযুক্তপক্ষের একজন আইনজীবী। আসল যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি কোনো সেনাকর্মকর্তাদের এই বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। মুক্তিবাহিনীর যারা বিহারি ও অভিবাসীদের ওপর নির্মম বর্বরতা চালিয়েছিল সে অপরাধেও কাউকে বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে না।’

রেজা মাহমুদ ও নুরুল কাদের রোডমার্চ থেকে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া দেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগের ‘দেশপ্রেমিক’ নেতাদের বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘এ দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে বিএনপি ও চারদলীয় জোট। আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থে কিছুই করছে না, তারা দেশকে কিছুই দিতে পারবে না। আওয়ামী লীগে যারা দেশপ্রেমিক আছেন, তারা দল ছেড়ে চলে আসুন। সম্মানজনক পদ দেয়া হবে।’
খুলনা অভিমুখে চারদলীয় জোটের রোডমার্চের প্রথম দিনে পথে পথে উল্লসিত জনতার শুভেচ্ছা গ্রহণ করে পাবনার দাশুরিয়ায় সমাবেশে পরিণত হওয়া এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এরপর সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠের বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
লক্ষাধিক লোকের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি বিজয় দিবসের পর সরকার হটাও আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, দেশকে সর্বক্ষেত্রে দেউলিয়া করে দিয়ে বর্তমান মহাজোট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে চায়। কিন’ আমরা তাদের পালাতে দেবো না।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মহাজোট সরকারের লুটপাটে দেশের অর্থনৈতিক অবস’া এখন ভয়াবহ। সরকার গ্যাস পাচারের ষড়যন্ত্র করছে। তাদের সন্তান বিদেশে, সম্পদ বিদেশে এ কারণে তারা দেশকে দেউলিয়া করে বিদেশে পালাতে চায়।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমির সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স’ায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, লে. জে. (অব:) মহাবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব:) অলি আহমদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) ইব্রাহিম, জাগপা সভাপতি সফিঊল আলম প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সোবাহান, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামী, বিজেপির মহাসচিব শামীম আল মামুন, সাবেক এমপি অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, রেজা আহমদ বাচ্চু প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।
খালেদা জিয়া বলেন, আবারো ১৯৭৪ সালের মতো দুর্ভিক্ষের দিকেই যাচ্ছে দেশ। আর সরকার মনে করছে, দেশ দেউলিয়া করে বিদেশে পালাবে। আওয়ামী লীগ নেতারা এ দেশ থেকে পালানোর উপায় খুঁজলেও আমরা কোথাও যাবে না। এ দেশেই আমাদের মাটি, আমরা এ দেশেই থাকব। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও আমাদের বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলেছে। মামলা দিয়েছে, নির্যাতন করেছে আমার সন্তানদের। সেই দিনও বলেছি, জেলে যেতে রাজি আছি তবে বিদেশে নয়। কিন’ যাদের শিকড় নেই তারা বিদেশে চলে দিয়েছিল। আবার মইন-ফখরুদ্দীনের সাথে ষড়যন্ত্র করে দেশে এসেছে। এমনকি তাদের অপকর্মকে বৈধতা দেয়া ও বিদেশীদের সাথে করা দেশবিরোধী চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের শর্তে ক্ষমতায় এসেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মহাজোট সরকার জনগণের ভোটে নয়, বিদেশীদের ষড়যন্ত্র আর বিদেশের বস্তা বস্তা টাকায় ক্ষমতায় এসেছে। এ জন্য তাদের দেশপ্রেম নেই। বর্তমানে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ ছাড়া আর কেউ ব্যবসায় বাণিজ্য করতে পারছেন না। এখন দেশে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি কিছুই নেই। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকার কোনো কাজই করেনি। শুধু কুষ্টিয়ায় নয়, সারা দেশেই এ সরকার কোনো কাজ করেনি। কিন’ অব্যাহতভাবে লুটপাট করেছে। অব্যাহতভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। বিদ্যুৎ তো দিতে পারছে না উল্টো বিনা টেন্ডারে আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স’াপনের সুযোগ দিচ্ছে। আর তাদের জ্বালানিতে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। সেই টাকা জনগণের কাছ থেকে নেয়ার জন্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এখন দেশবাসীর ওপর ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির চাপ পড়বে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ গ্যাস ও পানির জন্য একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হচ্ছে। আবাসন খাতে নেমে এসেছে স’বিরতা। জানা যাচ্ছে, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো কিনে নিচ্ছে প্রতিবেশী দেশের ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ে। এখন প্রতিটি জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। দেশের দরিদ্র-নিম্নমধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র পেশাজীবীরা তিন বেলা খেতে পান না।
খালেদা জিয়া যুবসমাজের উদ্দেশে বলেন, দেশের যুবকদের ভবিষ্যৎ কোথায়? এ সরকার তো সবার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ কি তোমাদের ঘরে ঘরে চাকরি দিয়েছে, দেয়নি। দেশ এখন যেভাবে চলছে তাতে দেশ প্রতিবেশীদের করদরাজ্যে পরিণত হবে। আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে তো নতুন প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন। তোমাদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। আজকে যুবসমাজের উদ্দেশে বলতে চাই- তোমরা কি টিভি দেখো না, ফেসবুক দেখো না। বিদেশে এখন যে আন্দোলন হচ্ছে তাতে তরুণ যুবকরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। মা-বোনরা তাতে যোগ দিচ্ছেন। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে যুবকরাই ৩০ বছরের স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করছে। তাই বলতে চাই, এখন তোমাদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময়। দেশরক্ষার যুদ্ধে সবাইকে আমি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
খালেদা জিয়া যুবকদের প্রতি কর্মসংস’ানের অঙ্গীকার করে বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপির নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে প্রথমেই যুবকদের কর্মসংস’ানের উদ্যোগ নেবো। ক্ষমতায় গেলে তোমাদের কর্মসংস’ানের বিষয়টিই প্রাধান্য দেয়া হবে। বিদেশী অনেক বিনিয়োগকারী এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন’ তারা এখন বিনিয়োগের পরিবেশ পাচ্ছে না। আমরা পরিবেশ তৈরি করলে অবশ্যই তোমাদের ব্যবসা ও কর্মসংস’ানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, একবার স্বৈরাচারী সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে পতন করেছি, নিশ্চয়ই এ লুটেরা সরকারকেও হটাতে পারব। তোমরা কি সে আন্দোলনে আমাদের সাথে থাকবে না?
তিনি কুষ্টিয়াবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমি খুবই দুঃখিত নির্ধারিত সময়ে সমাবেশে আসতে পারিনি। কারণ নিশ্চয় আপনারা জানেন। লালন সেতুর পর থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রাস্তার যে অবস’া তাতে দ্রুত আসার কোনো উপায় ছিল না। যোগাযোগমন্ত্রী কী করেন এবং এখনো কিভাবে পদে আছেন বুঝতে পারছি না। তাকে একবার ধরে এনে এ রাস্তা দেখানো দরকার। তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় রাস্তার সংস্কার হয় না। কিন’ ভারতের কাছে চড়া মূল্যে ঋণ নিয়ে তাদের জন্যই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে রাস্তা করে দিচ্ছে। যে ঋণের টাকা দেশবাসীকেই বইতে হবে। তাহলে বলুন, মহাজোট কি এ দেশের সরকার নাকি ভারতীয়দের। না হলে ভারতের সব চাহিদা তারা পূরণ করছে।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো পদ্মাসেতু করতে পারবে না। তবে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে আমরা পদ্মাসেতু করব। একটি নয় দু’টি। একটি মাওয়া পয়েন্টে অন্যটি আরিচা পয়েন্টে। আর এ জন্য প্রয়োজন বর্তমান দুর্নীতিবাজ সরকারকে হটানো প্রয়োজন।
খালেদা জিয়া বলেন, মহাজোট সরকার দেশের সর্বনাশ করেছে। সংবিধানে ব্যাপক একতরফা পরিবর্তন এনেছে। পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস’া বাতিল করেছে। আল্লাহর ওপর বিশ্বাসের কথা তুলে দিয়েছে। এমনকি আইন করেছে সে সংশোধনের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। প্রতিবাদ করলেই মামলা হবে। খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য একদা আওয়ামী লীগ জামায়াতকে সাথে নিয়ে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করেছিল। সে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দফায় ক্ষমতায় এসেছে। কিন’ এখন জনভিত্তি হারিয়ে আওয়ামী লীগই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস’া বাতিল করেছে। সে সরকার সংবিধান মানে না, আইন মানে না, আদালত মানে না- তাদের ওপর জনগণ কিভাবে আস’া রাখবে।
খালেদা জিয়া বলেন, আদালত তাদের নিজের। সব বিচারক দলীয়। দলীয় লোকদের বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাই হাজার হাজার হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না। এ জন্য ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, দলীয় বিচারক দিয়ে সুবিচার হবে না। জনগণ ন্যায়বিচার পাবে না। ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপির বিরুদ্ধে দায়ের একটি মিথ্যা মামলাও প্রত্যাহার করা হয়নি। কিন’ বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার তো দূরের কথা উল্টো মামলা দিচ্ছে। আদালতে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা আদালতে ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। দেশের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, এখন মুখ ও রাজনৈতিক পরিচয় দেখেই বিচারের রায় দেয়া হয়।
খালেদা জিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জে সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে সরকার জনগণের দাবির মুখেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করেনি। শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে আসতে হয়েছে।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। বিএনপিই মুক্তিযুদ্ধের দল। আমাদের দেশপ্রেম আছে, তাদের নেই। এ জন্যই তারা দেশবিরোধী চুক্তি করে, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান-লাঞ্ছিত করে। জনগণের পক্ষে কথা বলায় সেই দিনও কর্নেল অলি আহমদ ও কাদের সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত ও মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। কিন’ আওয়ামী লীগ কিভাবে জানবে কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে রাজাকার? তারা তো মুক্তিযুদ্ধই করেনি। তারা তো ছিল হোটেলে, রেস্ট হাউজে।
খালেদা জিয়া বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ফারাক্কা খুব কাছে। কুষ্টিয়াবাসী জানেন এ ফারাক্কা বাঁধের অনুমতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারই। পরীক্ষামূলক সে বাঁধ আর খোলা হয়নি। বাংলাদেশ পানি পায় না, নদীগুলো শুকিয়ে গেছে। এখন সিলেটের টিপাইমুখে নতুন করে বাঁধ দিচ্ছে ভারত। এ বাঁধ হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মরুকরণ শুরু হবে। দেশের তিন কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কু্‌ষ্িটয়ার জনসভার পর রাতে ঝিনাইদহের পথসভা শেষে যশোর সার্কিট হাউজে যান তিনি। সেখানে রাত্রিযাপন করেন খালেদা জিয়া। আজ সকালে খুলনার উদ্দেশে রওনা হবেন। বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জনসভার মাধ্যমে রোডমার্চ শেষ হবে।
সকাল ১০টায় গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দেন তিনি। মিনিট বিশেক পর উত্তরা রাজলক্ষ্মী মার্কেট থেকে কয়েক সহস্রাধিক গাড়িবহর তার সাথে যাত্রা শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় কুষ্টিয়ায় জনসভাস’লে পৌঁছান তিনি। খালেদা জিয়া যখন জনসভাস’লে এসে পৌঁছান, তখন আশেপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দুপুরের আগ থেকেই আশেপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী আসেন কলেজ মাঠে। বিকেল না গড়াতেই আশেপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়।
রোডমার্চের প্রথম দিনে পথে পথে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সর্বস্তরের জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হন খালেদা জিয়া। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে উত্তরা থেকে রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে শুভেচ্ছা জানান। পথে পথে জামায়াতকেও শোডাউন করতে দেখা গেছে।
এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে রোডমার্চে নেতৃত্ব দেন। বহরে যোগ দেয় সহস্রাধিক গাড়ি। পথে পথে উল্লসিত জনতা খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। বেলা ৩টায় পাবনার দাশুরিয়া মোড়ে পৌঁছে রোডমার্চ। তখন দাশুরিয়া পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
শেয়ারবাজার লুট করছে আওয়ামী লীগ : পাবনা সংবাদদাতা আবদুল মজিদ জানান, দাশুরিয়া মোড়ে প্রথম সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় ছিল প্রত্যেকবার দেশের সম্পদ লুট করেছে। বিদেশে পাচার করেছে। এ সময় ব্যাংক ডাকাতি হয়েছে। ’৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ হয়েছে। এক লাখ মানুষ মারা গেছে। আবারো একই অবস’ার দিকে তারা দেশকে নিয়ে যাচ্ছে। রিজার্ভ না থাকলে দেশ চলবে কিভাবে? অথচ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার বাবার সময় রিজার্ভ ছিল না, সে জন্য কি দেশ চলেনি? আমি বলেছি, রিজার্ভ ছিল না বলেই তো দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। তিনি বলেন, ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর জিয়াউর রহমান দেশের সার্বিক অবস’ার পরিবর্তন করেছেন। দেশের মানুষ তিনবেলা খেতে পেয়েছে। শানি-তে ঘুমাতে পেরেছে। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে প্রত্যেকবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার প্রতিদিন ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়ে গেছে। অবস’া এখন এমন যে ব্যাংকে যদি আপনার টাকা থাকেও তার পরও বড় চেক দিলে ব্যাংক টাকা দিতে পারছে না। কারণ সরকার ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে। কয়েক দিন পর ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে যাবে।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই শেয়ারবাজার লুট হয়। বিএনপি থাকলে হয় না। এই লুটের টাকা তারা দেশে রাখে না। ডলারে পরিণত করে বিদেশে পাচার করে। ফলে ডলারের দাম বেড়ে যায়। এ জন্য শেয়ারবাজারের লোকজন আত্মহত্যা করেছে। আন্দোলন করেছে। আওয়ামী লীগেরই একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, বিড়ালকে শুঁটকির পাহারা দিতে দেয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। তাদের পেছনে জনগণ নেই। এ কথা তারা ভালো করেই জানে। তাই সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। অথচ এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এক হয়ে আন্দোলন করেছিল। তখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম। তারা বলেছিল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। এর জন্য আন্দোলন করে তারা অনেক মানুষ হত্যা করেছে। এখন তারাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জামায়াত যখন আওয়ামী লীগের সাথে থাকে তখন তারা যুদ্ধাপরাধী হয় না। যখন বিএনপির সাথে থাকে তখন যুদ্ধাপরাধী হয়ে যায়। তারা এখন বলে, কাদের সিদ্দিকী নাকি যুদ্ধাপরাধী। কর্নেল অলি খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তার ওপরও তারা আক্রমণ করেছে।
রাস্তাঘাট ব্রিজ সব কিছু আমরাই করেছি। এখন বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মা-বোনেরা বাসায় গ্যাস পাচ্ছেন না। বিদ্যুতের কাজ আমরা যা শুরু করেছিলাম তা চালু করলে এখন কোনো সমস্যা থাকত না। মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীন বিদ্যুতের সব কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকদের রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট করতে দিয়েছে। বিনা টেন্ডারে নিজেদের দল ও আত্মীয়-স্বজনদের কোটি কোটি টাকার কাজ দিয়েছে। রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট করায় ১২ হাজার কোটি টাকার দায় চেপেছে গ্রাহকদের ওপর।
বিএনপি নেত্রী বলেন, আমরা সরকারে থাকতে যমুনা সেতু করেছি। তখন আওয়ামী লীগ বাধা দিয়েছিল। ভিত্তিপ্রস-র করার দিন হরতাল ডেকেছিল। তার পরও আমরা সেতু নির্মাণ করেছি। সেতু নির্মাণের অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে। এই সরকার দুর্নীতি করায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাইকা পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এই সরকার পদ্মা সেতু করতে পারবে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দু’টি পদ্মা সেতু হবে। একটা মাওয়ায় আর একটি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে করদরাজ্য বানানোর সব ব্যবস’া করে ফেলেছে। করদরাজ্য বা তাঁবেদার রাজ্য হওয়ার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আমরা স্বাধীন থাকতে চাই। টিপাইমুখে বাঁধ হলে দেশের ভয়াবহ ক্ষতি হবে। আমি ক্ষমতায় থাকা কালে তিনবার ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছি। বাঁধ নির্মাণের চুক্তি করার পর এখন আবার দিয়েছি। আজ আসার সময় শুনে এসেছি ভারতের প্রধানমন্ত্রী চিঠির উত্তর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বতর্মান সরকার দিশেহারা হয়ে গেছে। তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। পাবনায় হেমায়েতপুর তাদের জন্য ঠিক করে রাখা দরকার।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের সময় অনেক ওয়াদা করেছিল। কোনোটিই পূরণ করেনি। ১০ টাকায় চাল, বিনা মূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরি- কিছুই দেয়নি। সারের মূল্য এখন বিএনপি সরকারের চেয়ে তিন গুণ হয়েছে। বিএনপি সার দিত ২৬০ টাকা বস-া। এখন এক হাজার ৬০ টাকা। এখন মানুষের বেঁচে থাকাই কষ্টকর হয়ে গেছে। মানুষ পেট ভরে খেতে পায় না। সব জিনিসপত্রের দাম বেশি। আজ পত্রিকায় দেখলাম তেলের দাম বেড়েছে। এখন যে অবস’া তেল ছাড়া শুধু লবণ-ভাত খেতে হবে।
তিনি বলেন, এই সরকারের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। আপনারা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে নিরাপত্তা বোধ করেন না। মানুষ ঘরের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ করে না। আওয়ামী লীগের সোনার ছেলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ আরো কত লীগ এরা সব গুণ্ডাগিরি করতে নেমেছে। মানুষের ঘরবাড়ি, জমি, হিন্দুদের বাড়ি দখল করছে। এটা তাদের পুরনো অভ্যাস। স্বাধীনতার পরেও তারা এ কাজ করেছিল। তারা শুধু একের পর এক লুট করছে। শেয়ারবাজার থেকে আওয়ামী লীগের বড় বড় লোকেরা লুট করেছেন। সে জন্য অর্থমন্ত্রী তদন- করেও নাম প্রকাশ করতে সাহস পাননি।
পাবনা জেলা বিএনপি সভাপতি মেজর (অব:) কে এস মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি স’ায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ফজলুর রহমান পটল, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান, বিএনপির যুগ্মমহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী, স্বনির্ভর-বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, শিরিন সুলতানা, জামায়াতের ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, জেলা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তোতা, সেলিম রেজা হাবিব, নিলোফার চৌধুরী মণি এমপি, আলাউদ্দিন, ছাত্রদলের আমিরুজ্জামান শিমুল, আনিসুর রহমান খোকন, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুর রশীদ, সেক্রেটারি আবু তালেব মণ্ডল প্রমুখ।
বিএনপির রোডমার্চের গাড়ি গুনেছে পুলিশ
গাজীপুর থেকে মোহাম্মদ আলী ঝিলন জানান, রোডমার্চের গাড়িবহর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা অতিক্রম করে। এ সময় স’ানীয় বিএনপি নেতা ডা. মাজহারুল আলম, সোহরাব উদ্দিন, আনোয়ার হোসেনসহ শত শত নেতাকর্মী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বহরে থাকা নেতা-নেত্রীদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তবে পুলিশকে এ সময় মহাসড়ক যানজটমুক্ত করার পাশাপাশি গাড়িও গুনতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাদা পোশাকের এক পুলিশ জানান, তাদের নির্দেশ রয়েছে কোন ধরনের কয়টি গাড়ি এ বহরে যাচ্ছে তার একটি হিসাব নেয়ার।
বড়াইগ্রামে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা অহিদুল হক জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার খুলনা অভিমুখী রোডমার্চের গাড়িবহরকে বড়াইগ্রাম ও বনপাড়া পৌরসভা এলাকায় মুহুর্মুহু স্লোগান ও করতালির মধ্য দিয়ে স্বাগত জানান বড়াইগ্রাম উপজেলাবাসী। তবে রোডমার্চের সম্ভাব্য সময়ে বনপাড়া বাজারে স’ানীয় আওয়ামী লীগের সমাবেশ ডাকায় দুই দিন যাবৎ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও রোডমার্চের সময় তাদের কাউকে লক্ষ করা যায়নি।
বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সানাউল্লা নূর বাবুর স্ত্রী মহুয়া নূর কচি ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি সরদার রফিকের নেতৃতে বনপাড়া বাজারে বিএনপি নেতাকর্মীরা এবং কাউন্সিলর আবদুল হাকিমের নেতৃত্বে জামায়াত নেতাকর্মীরা রোডমার্চকে স্বাগত জানান। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ একরামুল আলমের নেতৃত্বে বনপাড়া বাইপাস মোড়ে, বড়াইগ্রাম পৌর সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে বড়াইগ্রাম চৌরাস-ার মোড়ে, পৌর সভাপতি অ্যাডভোকেট শরিফুল হক মুক্তার নেতৃত্বে রাজ্জাক মোড়ে এবং উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লিয়াকত আলী আলমের নেতৃত্বে রয়না ভরট হাটে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী এবং একই স’ানে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাশেম আলী মীরের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা রোডমার্চকে স্বাগত জানান।
মেহেরপুরে বিএনপির গাড়িবহরে ছাত্রলীগের হামলা
মেহেরপুর সংবাদদাতা ওয়াজেদুল হক জানান, মেহেরপুরের গাংনী বাজারে কুষ্টিয়ার জনসভায় যোগ দিতে যাওয়া বিএনপির গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। দুপুর ১২টার সময় এ হামলা চালানো হয়। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এতে মামুন নামে এক স্কুলছাত্র আহত হয়।
জেলা বিএনপি সভাপতি ও সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, রোডমার্চ উপলক্ষে দুপুর ১২টার সময় কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। এ সময় হঠাৎ করে বিএনপির গাড়িবহরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। ফলে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে সব যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক অবরোধ করে তারা গাড়িবহর যেতে দেননি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ দিকে পাল্টা অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ নেতা গাংনী পৌর মেয়র আহমেদ আলী জানান, গাড়িবহর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে জখম করেছে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: