মাইক্রোফোন ছাড়া ট্রাইব্যু নালের আর কিছুই আন্তর্জাতিক ন য় : সালাহউদ্দিন কাদের :: নয়াদি গন্ত

30 Nov

http://www.dailynayadiganta.com/details/13820

মাইক্রোফোন ছাড়া ট্রাইব্যুনালের আর কিছুই আন্তর্জাতিক নয় : সালাহউদ্দিন কাদের

বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, মাইক্রোফোন ছাড়া এই ট্রাইব্যুনালের আর কোনো কিছুই আন্তর্জাতিক দেখতে পাচ্ছি না। ট্রাইব্যুনাল গঠনে সংবিধান লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায় পড়ে কি না সে বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরি ডেকে শুনানির দাবি জানিয়েছেন তিনি। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আদালতকে বলেন, এটি কোনো মামুলি বিষয় নয়। ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদসহ আরো যারা সিনিয়র আইনজীবী আছেন তাদের ডেকে এনে বিষয়টি ফয়সালা করা হোক।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী গত ২৪ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে একটি আবেদন দায়ের করেন। এ বিষয়ে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তিনি ট্রাইব্যুনালের সব কার্যক্রম স’গিত করার আবেদন জানান। গতকাল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন কাদের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে উদ্দেশ করে বলেন, স্যার আমাকে আজরাইলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আপনার চুল সাদা হয়েছে। আমার চুল পড়ে গেছে। আমার বয়স ৬৩ বছর। কাজেই আমাকে ওসব ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, স্যার আমার চাচাতো বোনের সাথে আমার কোনো শত্রুতা ছিল না। কিন’ মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীন তাকে ক্ষমতায় বসানোর পর আমি যুদ্ধাপরাধী হয়ে গেলাম।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, স্যার পত্রিকায় দেখলাম আপনি বলেছেন, ১৯৯৪ সালের গণতদন্ত কমিশনের সেক্রেটারিয়েট মেম্বার হিসেবে শুধু আপনার নামটা ছিল। কিন’ স্যার রাজাকার, আলবদর, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা কোনো সহায়ক বাহিনীর কোথাও আমার কোনো নাম ছিল না। তবে আমি স্যার একটা জায়গায় ধরা খেয়েছি। যে বাপের কোলে আমার জন্ম হয়েছিল এবং যে বাপ আমার জন্মের পর খাসি জবাই করে আকিকা করেছিল- সেই বাপের পরিচয়ের কারণে আজ আমি যুদ্ধাপরাধী।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের কাছে জানতে চান তার বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে কি না। বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, এখনো হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে হবে। তখন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, এটা স্যার কেমন আন্তর্জাতিক আদালত। আপনার সামনে মাইক্রোফোনটা ছাড়া আর কোনো কিছুই তো আন্তর্জাতিক দেখতে পাচ্ছি না।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী কোনো আইনজীবী নিয়োগ ছাড়াই নিজের বক্তব্য পেশ করেন। বেলা ১১টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে তিনি তার ৫৬ দফা আবেদন পড়ে শোনান। এরপর প্রায় আধঘণ্টা বক্তব্য রাখেন। একপর্যায়ে আদালত আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।
শুনানিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমার কাছে যেসব যুক্তিতর্ক রয়েছে তার ওপর বক্তব্য দিলে অনেক সময় দরকার। আদালতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ যে, এ বিষয়ে ফয়সালা করার জন্য ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদসহ আরো যারা দেশে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ রয়েছেন- তাদের এখানে ডেকে এনে বক্তব্য শোনা হোক। তাদের মতামত নেয়া হোক। বিচারপতি নিজামুল হক তখন বলেন, অ্যামিকাস কিউরি ডাকার প্রয়োজন আছে কি না তা আমরা দেখব।
আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমেই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক সালাহউদ্দিন কাদেরের কাছে জানতে চান- আপনার আইনজীবীরা কোথায়। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, তারা সব পালাচ্ছে। তাদের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া হয়েছে। তারা জামিনের জন্য হাইকোর্টে দৌড়াচ্ছে। আসবে কী করে? বিচারপতি নিজামুল হক তখন বলেন, আপনার ওকালতনামায় তো ৫০ জনের ওপর আইনজীবীর স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে। তারা কোথায়? তখন সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, ৫০ জন নয়, আমার আড়াই শ’ আইনজীবী আছেন। তারা সবাই ভয়ে পালাচ্ছেন।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমি শুরু থেকেই বলে আসছি আমি কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেবো না। আমার বক্তব্য আমিই দেবো। কিন’ আদালত আমাকে বাধ্য করছে আইনজীবী নিয়োগের জন্য।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বন্দী অবস’ায় তার ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন পাকিস্তান বাহিনী গ্রেফতার করে তখন তারা পর্যন্ত সাহস পায়নি তার গায়ে হাত তোলার। আমি ৩২ বছর ধরে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করছি। কিন’ আমার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। কোন সাহসে তারা আমার গায়ে হাত দিয়েছে এর বিচার আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দেশ ও জাতির ওপর ছেড়ে দিলাম।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলেন, স্যার বিবিসির খবরে শুনতে পেলাম একজন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এ ট্রাইব্যুনাল কোনো কোর্ট কি না। এই ট্রাইব্যুনাল কোনো কোর্ট কি না সে বিষয়ে আমি কোনো চ্যালেঞ্জ জানাইনি। ট্রাইব্যুনাল তখন বলেন, আপনি কী মনে করেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি যেখানে যান সেখানেই তিনি তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। যেমন কিছু দিন আগে রাস্তায় একজন পুলিশ বিচারপতিকে স্যালুট না দেয়ার কারণে সেখানেই তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এখানে সুপ্রিম কোর্টের দুইজন বিচারপতি আছেন। তাই আমি একে সুপ্রিম কোর্ট মনে করি।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির শপথবাক্য পাঠ করে শুনিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি ‘সংবিধান ও আইনের রক্ষক সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব’ বলে শপথ করেছেন। কিন’ একজন এমপির শপথে এ বিষয়গুলো থাকে না। কিন’ দুঃখের বিষয় হলো, একজন এমপি হয়ে আমাকে সংবিধান রক্ষণের জন্য কথা বলতে হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, এই ট্রাইব্যুনালে তিনজন বিচারপতির মধ্যে দুইজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। এরা হলেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক এবং অপর বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির। সংবিধানের ৯৪ (৩) ধারা মতে, প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিরা আপিল বিভাগে বসবেন। সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি হাইকোর্টে বসবেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের এই ধারা মোতাবেক হাইকোর্টের বিচারপতিদের হাইকোর্টের বাইরে অন্য কোথাও বসার বিধান নেই। কিন’ সংবিধানের ৯৪ (৩) ধারা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে এই দুই বিচারপতিকে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই দুই বিচারপতিকে হাইকোর্টের বাইরে ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দিয়ে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আইন মন্ত্রণালয় থেকে যে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি যেমন চরম আঘাত তেমনি সংবিধানেরও লঙ্ঘন।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আবেদনে বলেন, ২০০৯ সালে ১৯৭৩ সালের আইনের যে সংশোধনী পাস করা হয়েছে তা-ও সংবিধানবিরোধী এবং অবৈধ। ১৯৭৩ সালের আইনটি করা হয়েছিল পাকিস্তানি ১৯৫ জন সেনাকর্মকর্তার বিচারের জন্য। আইনের মাধ্যমে পাকিস্তানি আর্মড ফোর্সেস বা ডিফেন্স এবং অক্সিলিয়ারি ফোর্সের সদস্যদের বিচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ওই-জাতীয় কোনো বাহিনীর সদস্য ছিলেন না। কিন’ ২০০৯ সালে যে সংশোধনী আনা হয়েছে তাতে ‘ইন্ডিভিজুয়াল’, ‘গ্রুপ অব ইন্ডিভিজুয়াল’ এবং ‘অর্গানাইজেশন’, শব্দগুলো যোগ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঢাকা বিভক্তি এ সরকারের একটি স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত। এতে রাষ্ট্রের ব্যয় ও জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিভক্ত ঢাকাকে একীভূত করা হবে। শেষ সময়ে মন্ত্রিসভা রদবদল করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। ড্যামেজ ইজ অলরেডি ডান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা বিভক্তির বিরুদ্ধে জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি বিএনপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ক্ষমতায় গেলে এই অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত বাতিল করে আবার ঢাকাকে একটি সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা হবে।
মির্জা আলমগীর বলেন, বর্তমান রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্টে ব্রুট মেজরিটির জোরে ঢাকা ভাগ করা হলেও এটা কেউ মেনে নেয়নি। তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকদের বসানোর জন্যই এটা করা হচ্ছে। মির্জা আলমগীর বলেন, ঢাকা ভাগের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী জনসেবার মান বাড়াতে খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। এতে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়বে, সমন্বয়হীনতা বৃদ্ধি ও জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। এই সিদ্ধান্ত ঐতিহ্যবাহী এই নগরীর নাগরিকেরা মানবে না। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক মানসিকতা থেকেই স্বৈরাচারী অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগ করার এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। ইতোমধ্যে নানা পেশার মানুষ এটার বিরোধিতা করেছে। তুঘলকি এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক।
তিনি বলেন, সরকার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে। যা করার দরকার নেই তা করছে, যা দরকার তা করছে না। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। জনগণের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কর্মসংস’ানের ব্যবস’া করতে পারছে না। অথচ একের পর এক অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা ঢাকা বিভক্তির এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছি। একই সাথে ঢাকা বিভক্তির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি আমরা পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন।
ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নামের নতুন নাগরিক গণ-আন্দোলন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা আলমগীর বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র বিকাশের জন্য যারা কাজ করছে তাদের স্বাগত জানাই। গণতন্ত্র বিকাশে তারা কাজ করবেন বলে আশা করি।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও ওবায়দুল কাদের মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় অভিনন্দন জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। একই সাথে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল করেও শেষ রক্ষা হবে না। ড্যামেজ ইজ অলরেডি ডান।
এখন আর জীবনরক্ষাকারী ওষুধ দিয়ে কাজ হবে না। সরকারের সময় শেষ হয়ে গেছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম বন্ধ ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দেয়া বিএনপির চিঠির প্রেক্ষাপটে ইসির দেয়া জবাব ও খালেদা জিয়ার কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের দেয়া চিঠি ও বিএনপিকে দেয়া নির্বাচন কমিশনের চিঠির উত্তর শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মো: শাহজাহান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদ, নির্বাহী সদস্য রফিক সিকদার, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, রেহানা আকতার রানু এমপি প্রমুখ।

স’ানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনের ভয়ে কিংবা রাজনৈতিক কারণে ডিসিসিকে বিভক্ত করা হয়নি। নাগরিকদের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের রাজধানীকে বিভক্ত করা হয়নি। কেবল সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করা হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই ডিসিসির জন্য প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। আজ বুধবার বিলটি রাষ্ট্রপতি মো: জিল্লুর রহমানের কাছে পাঠানো হবে। তিনি স্বাক্ষর করলে আগামীকাল প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।
গতকাল বিকেলে সংসদে মাত্র চার মিনিটেই ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) দুই ভাগ করার বিল পাসের পরই সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ডিসিসি দুই ভাগ করতে গিয়ে সরকার বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য খুঁজে পেয়েছে। এটি একটি ‘পিকিউলিয়ার’ শহর। ঢাকার আয়তন যতখানি তার অর্ধেকও ঢাকা নয়। ভাসমান জনসংখ্যার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কেউ বলে এক কোটি, কেউ বলে এক কোটি ২০ লাখ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের ভয়ে নয়, সরকার মূলত নাগরিক সুবিধা আরো বেগমান করতে ডিসিসি বিভক্ত করেছে। নগরবাসীর দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
ঢাকার সদ্যবিদায়ী মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) যদি জনগণের ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসে ডিসিসিকে আবার আগের অবস’ায় নিতে চায় তাহলে জনগণের রায় হিসেবে আমরা তা মেনে নেবো।
তিনি বলেন, ডিসিসি বিভক্তি করা নিয়ে অনেকেই ‘টক শো’তে বিভিন্ন রকম বিরূপ মন্তব্য করছেন। যারা এভাবে সমালোচনা করছেন তারা আসলে সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। সমালোচানা করতে গিয়ে অনেকে বলেছেন বিশ্বের কোথাও সিটি করপোরেশনকে ভাগ করার নজির নেই। তিনি বলেন, লন্ডন শহরেও দু’টি সিটি করপোরেশন আছে। একটি সিটি লন্ডন ও আরেকটি গ্রেটার লন্ডন। দু’টির হেড কোয়ার্টারের দূরত্ব মাত্র ৫০ গজ। সেখানে দুইজন আলাদা নির্বাচিত মেয়র রয়েছেন। এ ছাড়া সেখানে আরো ৩৬টি বার-এ কাউন্সিল রয়েছে। প্রতিটিতে আলাদা মেয়র রয়েছেন। অর্থাৎ শুধু লন্ডনেই মেয়র রয়েছেন ৩৮ জন। তাদের সিটি করপোরেশন ৪০০ বছরের পুরনো। তারা আমাদের চেয়েও বেশি অভিজ্ঞ। তিনি বলেন, এ ছাড়া নিউ ইয়র্কে একজন মেয়র থাকলেও সেখানে পাঁচজন বার-এ কাউন্সিল মেয়র রয়েছেন। নিউ ইয়র্ক সবচেয়ে ধনী শহরগুলোর একটি। তাদের দু’টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের মালিকানা সিটি করপোরেশনের। এমনকি শহরের পুলিশের দায়িত্বও তাদের। তাদের নাগরিক সেবা দেয়ার প্রয়োজন হয়েছিল বলেই তারা সিটি করপোরেশন ভাগ করেছিল। ঢাকার জনসংখ্যা লন্ডনের জনসংখ্যার কাছাকাছি। ঢাকায় ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে। অথচ সেগুলো ডিসিসির আওতায় নয়। ক্যান্টনমেন্ট, সব ডিওএইচএস ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অধীনে। বসুন্ধরা সিটির চারটি ব্লক বাদে বাকিগুলো ডিসিসির আওতার বাইরে। সেগুলো ডিসিসির আওতাভুক্ত নয় বলে সেখানকার অধিবাসীরা ডিসিসির ভোটার নন। তারা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেও স’ানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। তিনি বলেন, এই বিপুলসংখ্যক লোক ডিসিসির না হয়েও ডিসিসির সেবা ভোগ করছেন। তারা রাস্তাঘাট ব্যবহার থেকে শুরু করে পানি বিদ্যুৎ গ্যাসসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা ভোগ করছেন। এতে করে বাড়তি জনসংখ্যার চাপও ডিসিসিকে বহন করতে হচ্ছে। অথচ তারা কোনো ধরনের কর ডিসিসিকে দেয় না। এ সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড। এমনকি তাদের বাড়ি বানানোর অনুমোদন দেয়ার এখতিয়ার রাজউকের নেই।
সে ক্ষেত্রে ডিসিসি দুই ভাগ হলে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ডিসিসির আওতায় আসবে কি না- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নটি অনেক আগেই ওঠা উচিত ছিল। আমরা মনে করি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ডিসিসির আওতায় আসা উচিত। কারণ তারা ডিসিসির সব সুবিধাই ভোগ করে। একইভাবে ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদও ডিসিসির আওতায় আসা উচিত বলে মনে করি। এত দিন বিষয়গুলো আলোচনায় আসেনি। বর্তমান সরকার এগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করে এগোতে চায়। এগুলোকে ডিসিসির আওতায় হঠাৎ করে আনা সম্ভব নয়। কারণ এ নিয়ে অনেক মামলা রয়েছে। এগুলো নিষ্পত্তি করে এগোতে হবে।
তিনি বলেন, এ সরকার অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ পৌরসভা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার তা প্রমাণ করেছে। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এ সরকার মনে করে আগামীতে সব নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে হওয়া উচিত। এতে করে ভোট ছিনতাই-জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। সহজে কম সময়ে নির্ভুল ভোট গণনা করা যায়।
এ দিকে উপজেলা পরিষদ বিল প্রস্তাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদ সংগঠনগুলোর সাথে দীর্ঘ দিন একাধিকবার আলোচনার পর অনেকের সাথে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংশোধনী আনা হয়েছে। তার পরও বলব এটা হয়তো পরিপূর্ণ নয়। আগামীতে আরো সংশোধনী আনা হতে পারে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: