জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দেয়ার দা বি | প্রবাস | নতুনবার্তা

29 Nov

জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দেয়ার দাবি | প্রবাস | নতুনবার্তা

নিউ ইয়র্ক: গত শনিবার দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন ‘কোয়ালিশন অফ বাংলাদেশী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করেন। তারা ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দিয়ে বন্দী নেতাদের মুক্তি দাবি করেন।

‘কোয়ালিশন অফ বাংলাদেশী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সমাবেশটি হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সমাবেশ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে পুলিশের ছত্রছায়ায় ছাত্র লীগ-যুবলীগের দলীয় ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, বিরোধী দলের মিছিল সমাবেশে সশস্ত্র হামলা, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, নির্যাতন, লুটপাটসহ আওয়ামী দমন পীড়ন চালাচ্ছে। তারা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য প্রবাসীসহ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাড়ানোর আহবান জানান।
সকাল থেকে এসে ইস্ট রিভারের তীরে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে সমাবেশস্থলে জামায়াতের লোকজন জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মহিলা উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা বহন করছিলেন আটক নেতাদের ছবিসহ তাদের মুক্তির দাবি সম্বলিত পোস্টার ও ব্যানার। বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বিক্ষোভ সমাবেশ।

শিক্ষাবিদ আবু সামীহাহ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রফেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক কাজী মোঃ ঈসমাইল, প্রগ্রেসিভ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু ওবায়দা, বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ সম্রাট ও সোলায়মান ভুইঁয়া, সাঈদী মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল খালেক, জাতীয় যুব কমান্ডের সভাপতি আলম চৌধুরী, ক্যাবি সোসাইটির সভাপতি আজিজুল্লাহ, বিল্ডার্স এসোসিয়েশন সভাপতি আমিনুর রসূল জামশেদ, ওলামা পরিষদের সভাপতি ফজলুল বারী, দাগনভূইঁয়া সমিতির সাবেক সভাপতি শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ ঢালাওভাবে জামায়াতের ওপর আরোপ করে দলটির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে একতরফা বিচার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা অভিযুক্তদের কী দণ্ড হবে এবং কবে তা কার্যকর করা হবে তা তাদের বক্তৃতায় যে ভাষা ও যে ভঙ্গিমায় বলছেন তাতে এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে তারা ট্রাইব্যুনালকে কী ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তাছাড়া ট্রাইব্যুনালের গঠন, এ সংক্রান্ত আইন ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুলেছেন।

তারা বলেন, জামায়াত নেতারাই যদি ১৯৭১ সালে সব অপরাধ করে থাকবেন, তাহলে পাকিস্তানী সৈন্যরা বাংলাদেশে কী করেছে? মুক্তিযুদ্ধ কি পাকিস্তানী সৈন্যদের বিরুদ্ধে ছিল, না জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ছিল? দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রথম সরকার যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা অফিসারকে অভিযুক্ত করেছিল, তাদেরকে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া হলো কেন?

তারা আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। স্বাধীনতা পরবর্তী প্রায় সব কটি নির্বাচনেই দলটি অংশ নিয়েছে এবং জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে। কিন্তু মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জামায়াতকে কোণঠাসা করার জন্য জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে এবং এখন তা সকল সীমা অতিক্রম করেছে। গত আড়াই বছর ধরে দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা মিছিল-মিটিংয়ের ওপর সরকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে-সরকার একটি সুসংগঠিত গণতান্ত্রিক দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ অধিকাংশ জেলা অফিস কার্যত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হামলা ও লুণ্ঠন করা হয়েছে। জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় দু’হাজার মামলা দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তারা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি দলের ক্যাডাররা সারা দেশে জামায়াত শিবির অফিস, জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে ও অগ্নিসংযোগ করছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের তান্ডবে দেশজুড়ে বিভীষিকার রাজত্ব কায়েম হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ মদদ জোগাচ্ছে পুলিশ।

বক্তারা দাবি করেন, জামায়াতের ওপর তারা জুলুম করে পার পেয়ে গেলে দেশের কোনো জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তি তাদের ছোবল থেকে রক্ষা পাবে না। তাই তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবার এখনই উপযুক্ত সময়।

তারা বলেন, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে নিজেদের আচরণ দ্বারা আওয়ামী আরো একবার প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতা হাতে পেলে তারা কিভাবে তার অপব্যবহার করে।

তারা অভিযোগ করেন, ট্রাইবুনালে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষী দিতে এসে সুখরঞ্জন বালী ডিবি কর্তৃক অপহরণ হলে আদালত নিরব ভূমিকা পালন করছে।

নতুন বার্তা/এসএ

http://www.natunbarta.com/index.php?view=details&data=Leather&news_type_id=1&menu_id=103&news_id=1265

Watch on Bangladesh War Crimes Tribunal

Blog: ictbdwatch.wordpress.com
Follow: @WarCrimesBD
Like:https://www.facebook.com/pages/Watch-on-Bangladesh-War-Crimes-Tribunal/335180206577876

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: