মাওলানা নিজামী ও সাঈদীর বিচারও পুনরায় শুরুর আবেদন সাঈদীর মামলার শুনানী শুরু করলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

25 Dec

মাওলানা নিজামী ও সাঈদীর বিচারও পুনরায় শুরুর আবেদন
সাঈদীর মামলার শুনানী শুরু করলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজ আসামী পক্ষ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার পুনরায় শুরুর আবেদন জমা দিয়েছেন। আগামীকাল অধ্যাপক গোলাম আযমসহ এ দুটি আবেদনের শুনানীও একসাথে অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

তবে আসামী পক্ষের আবেদনের কারনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আজ মাওলানা সাঈদীর মামলায় শুনানীতে অংশ নিয়ে আইনগত দিক তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত যুক্তি পেশ করেছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ওমরাহ পালন উপলক্ষে সৌদি আরব যাবেন বিধায় আজ তার শুনানী গ্রহনের জন্য ট্রাইব্যুনালের নিকট আবেদন করেন আসামী পক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। এরপর ট্রাইব্যুনাল মাওলানা সাঈদীর আবেদন গ্রহণ করে বলেন আবেদন জমা দিয়েছেন এই মর্মে আপনি শুধু আইনী দিক তুলে ধরে আপনার শুনানী পেশ করেন।

ট্রাইব্যুনালে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৬ (৬) ধারায় বলা আছে ‘শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনালের কোন সদস্যের পরিবর্তন হলে বা কোন সদস্য অনুপস্থিত থাকলে ইতোপূর্বে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন এমন কোন সাক্ষীকে পুনরায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তলব করতে বা পুনরায় শুনানী গ্রহনে ট্রাইব্যুনাল বাধ্য থাকবেনা।’

আবার ২(এ) ধারায় বলা আছে ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করবেন এব্ং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবেন।
বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পুরো বিচার কার্যক্রমকে কলুষিত করে রেখে গেছেন। তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তার আর কিছু করার ছিলনা। কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন? একটা অস্বাভাবিক অবস্থায় পড়ে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

আপনাদের দেখতে হবে তিনি যা রেখে গেছেন তার সবকিছু যদি আপনারা গ্রহণ করেন তাহলে তা ন্যায় বিচারের মধ্যে পড়ে কি-না।
সংবিধানে বলা আছে প্রধান বিচারপতি স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করবেন। আপনারাও সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনভাবে বিচার কাজ করবেন। ৬(৬) ধারা এখানে প্রয়োগ করতে আপনারা বাধ্য নন। আপনারা এখানে ন্যায় বিচারের জন্য বসেছেন এবং আইন ও সংবিধানে আপনাদের ন্যায় বিচারের জন্য ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এবং ন্যায় বিচার করতে আদেশ দিয়েছে।

এই বিচারে চার্জ গঠনের আদেশ বাইরে থেকে এসেছে। এটা চিন্তারও অতীত। দুনিয়ার ইতিহাসে এটা ঘটেনি। তাকে অপসারনের যে আবেদন করা হয়েছিল সে আদেশও বাইরে থেকে এসেছে। রায়ের কাঠামো কি হবে তাও বাইরে থেকে এসেছে। এরপর ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা থাকল কোথায়?

আপনারা যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম যা রেখে গেছেন সেখান থেকে তার ওপর ভিত্তি করে রায় দেবেন তা দিতে পারেন কিন্তু তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু হবে তা আপনাদের ভাবতে হবে। আপনারা এমন একটা রায় দিন যাতে মানুষ মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে, আপনারা ন্যায় বিচার করেছেন। তা নাহলে এ বিচার আজ এখানে শেষ হয়ে যাবেনা। ৫/১০ বছর পরও মানুষ এ নিয়ে গবেষনা করবে।

এ পর্যন্ত বলে তিনি ট্রাইব্যুনালে তার সাবমিশন শেষ করেন।

সাংবাদিকদের সামনে মওদুদ : ট্রাইব্যুনালের বিচার কক্ষ থেকে বের হয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অপক্ষেমান সাংবাদিকদের বলেন, স্কাইপ কেলেঙ্কারি দৈনিক আমার দেশ এবং ইকনোমিস্টে ফাঁস হওয়ার পর সুবিচার পাওয়ার যে আকাঙক্ষা তা নষ্ট হয়ে গেছে। ৬(৬) ধারা অনুযায়ী এখন শুধু রায় দিতে বাকী আছে সাঈদী সাহেবের কেসে। আইন অনুযায়ী যতটুকু বিচার হয়েছে সেখান থেকে আবার শুরু হবার কথা বলা আছে। কিন্তু ২(এ) ধারায় স্বাধীনভাবে বিচার পরিচালনা এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। বিচারপতি নিজামুল হক স্বাধীনভাবে বিচার কাজ পরিচালনা করেননি। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। শপথে বিচারপতিকে সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলা আছে। তিনি তাও রক্ষা করেননি। তিনি সুবিচার পাবার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ৬(৬) ধারাকে এখানে প্রাধান্য দেয়া ঠিক হবেনা। কারণ তিনি তো স্বাধীনভাবে বিচার পরিচালনা করেননি। আমার জীবনে শুনিনাই যে বাইরে থেকে চার্জ গঠনের আদেশ আসে।
নৈতিকতার স্বার্থে, সংবিধানের স্বাথে শুরু থেকে শুরু করতে হবে এ বিচার। এভিডেন্সে গ্রহণ থেকে শুরু করে সব কিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: